বাংলাদেশের মুসলমানরা ঈদ উল ফিতরকে একটি অনন্য উৎসবের মতো আনন্দ উদযাপন করেন। এই উৎসবটি রমজান মাসের রোজাখাওয়ার পর আয়োজিত হয়। উৎসবের পূর্বেই বাড়িগুলো সাজানো-পাকানো হয়, নতুন পোশাক কিনে নেওয়া হয়, এবং পরিবারের সদস্যরা পরস্পরের দেখা করার জন্য প্রস্তুতি নেন। শহর ও গ্রামে বাজারগুলো জীবন্ত হয়ে ওঠে, মানুষজন সাজে-গাজে বের হয়ে পোশাক, গাজর, চাঁদর এবং আরও অনেক জিনিসপত্র কিনতে যায়।
ঈদের দিনে প্রাতে ঈদগাহে বা মসজিদে বড় একটি জামাতে ঈদের নামাজ পড়া হয়। নামাজের আগে শুভ আকাঙ্ক্ষা জানানোর জন্য মানুষজন পরস্পরের সাথে মিশে যায়। নামাজের পর মানুষরা বাড়ি ফিরে আসে এবং পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের সাথে ঈদ মিলাদি বা ঈদ কেক পরিবেশন করে। দুর্ভাগ্যবশত মৃত পূর্বপুরুষদের শ্রদ্ধা জানাতে সমাধিস্থানে যাওয়া একটি অংশ।
ঈদকে আরও সামাজিক করার জন্য মানুষজন একে অপরের বাড়িতে যায় এবং শুভেচ্ছা জানায়, হাজারো বার বলে, "ঈদ মোবারক"। শিশুদের জন্য একটি বিশেষ অংশ হল ঈদি পাওয়া। এছাড়াও, বাংলাদেশের মুসলমানরা বিভিন্ন ধরনের খাবার, বিশেষ করে সেভাই, হালুয়া, মিঠাই এবং বারফি তৈরি করেন। এই উৎসবে সবাই একসাথে খাওয়া-দাওয়া, হাসি-আহ্লাদ এবং একে অপরের সাথে মিশে যাওয়ার সুযোগ পান।
ঈদ উদযাপনের অংশগুলোতে প্রত্যেকের জীবনে সুখ, শান্তি ও সৌভাগ্য এনে দেয় একটি বিশেষ আনন্দের সময়, যেখানে সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষই একসাথে মিলিত হয় এবং পরস্পরের হিংসা ও বিদ্বেষ ভুলে যায়। এই উৎসবটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিপোষণের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।