ঈদ উল ফিতর মুসলিমদের প্রধান উৎসবগুলোর অন্যতম একটি যা রমজান মাসের পূর্ণ রোজা পালনের পর আয়োজিত হয়। এটা একটি বড় উদযাপন, যার পিছনে মুসলিমদের বিশ্বাস এবং সাধারণ ধর্মীয় প্রথার একটি সমন্বয় রয়েছে। মুসলিমরা মনে করেন যে, এই উৎসবটি তাদের প্রত্যেক রোজার পুরস্কার, যা তাদের ধৈর্য, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং ঈমানের পরীক্ষা হিসেবে পালন করা হয়। এই উৎসবটি তাদের খোদাতালার দিকে তাকানোর একটি সুযোগ, এবং এটা তাদের সামাজিক একতা, ভাইচালাকি এবং পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসার প্রকাশ। এই দিনে মুসলিমরা পরস্পরকে বন্ধুত্বের সাথে আহ্বান করে, গরিবদের সাথে শুভেচ্ছা ভাগাভাগি করে, এবং পরস্পরের মধ্যে প্রেম ও মমতার বাণ্ডবান্ডুতা গড়ে তোলার চেষ্টা করে।
ঈদ উল ফিতরের প্রস্তুতি রমজান মাসের শেষ দিকে শুরু হয়। এই সময়ে মুসলিমরা ঈদের জন্য নতুন পোশাক, খাবার-দাবার এবং উপহার সংগ্রহ করেন। একইসাথে তারা শেরীয়তি দান, যা সাঁত্তার দান নামে পরিচিত, দেন। এই দানটি গরিব ও দরিদ্রদের ঈদের আনন্দ উপভোগের জন্য উদ্দেশ্য করা হয়, তারা এই দিনে সবার সাথে এক সাথে থাকতে পারেন এবং আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। ঈদের দিনে মুসলিমরা সকালে ঈদ নামাজে অংশগ্রহণ করে, যা সাধারণত একটি মসজিদ বা ঈদগাহে বড় ভিড়ে সম্পন্ন হয়। এই নামাজের পূর্বে এবং পরে পরস্পরের মধ্যে শুভেচ্ছা দেওয়া-নেওয়া, একে অপরের ঘরে আমন্ত্রণ এবং মিলন-মেলার উৎসব রয়েছে।
বাংলাদেশে ঈদ উল ফিতর একটি বড় উৎসব হিসেবে পালিত হয়, যার প্রস্তুতি সারাদেশে শুরু হয় রমজান মাসের শেষ দিকে। শহরে শহরে, গ্রামে গ্রামে মসজিদ এবং ঈদগাহগুলো সুন্দরভাবে সাজিয়ে-কাজিয়ে নেওয়া হয়, এবং সকালে ঈদ নামাজের জন্য সুসজ্জিত হয়। নামাজের পর পরস্পরের মধ্যে শুভেচ্ছা দেওয়ার পাশাপাশি গরিব ও দরিদ্রদের সাথে সাঁত্তা ভাগাভাগি করা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরের দিনগুলোতে আত্মীয়-স্বজনদের ঘরে যাওয়া, বন্ধুদের সাথে মিলন, এবং বিভিন্ন ঈদ-ঈক্রম প্রকাশের উপকরণ বিক্রির বাজারে ভিড় দেখা যায়। বাংলাদেশে এই উৎসবটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সার্বভৌম সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্বীকৃত এবং সমস্ত নাগরিক এই উৎসবটি শুভেচ্ছার সাথে অনুষ্ঠান করেন। ঈদ উল ফিতর উৎসব গান, নাচ, খেলা-প্রতিযোগিতা এবং নানান প্রকার আনন্দ-উৎসবের মাধ্যমে আরও রংবেরং হয়।