বাংলাদেশে করোনা ভ্যাকসিনের ডোজ প্রয়োগ প্রক্রিয়া চলছে অনেক দিন ধরে। সরকার এই প্রক্রিয়াতে অনেক প্রকারের ভ্যাকসিন ব্যবহার করছে, যেমন সিনোভ্যাক, অক্সফোর্ড-আস্ট্রাজেনিকা (কোভিশিল্ড), সিনোফার্ম, মোদারনা, পফাইজ-বিয়োনটেক (কোভিড-১৯) এবং জনসন অ্যান্ড জনসন (কোভিড-১৯) ভ্যাকসিন। এই ভ্যাকসিনগুলো বিভিন্ন উম্রের ব্যক্তিদের জন্য সুবিধাজনক হয়েছে এবং তাদের মধ্যে অধিকাংশ হলো দুই ডোজের, কিন্তু কিছু ভ্যাকসিন যেমন জনসন অ্যান্ড জনসন এক ডোজের। এছাড়াও, কিছু ব্যক্তি বৃদ্ধদের জন্য তৃতীয় ডোজ বা বুস্টার শট প্রাপ্ত হচ্ছেন।
প্রয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে। প্রথমে করোনা রোগের প্রতি উচ্চ ঝুঁকিবিশিষ্ট ব্যক্তিদের, তৈলাষিক কর্মী, মেডিকেল কর্মী, এবং বৃদ্ধদের জন্য ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা শুরু করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এই প্রক্রিয়াটি সমস্ত বয়স্ক জনগণের মধ্যে প্রসারিত হয়েছে। ভ্যাকসিনেশন কেন্দ্রগুলোতে মানুষ ক্রমান্বয়ে ভ্যাকসিন প্রাপ্ত হচ্ছেন এবং এই প্রক্রিয়াটি অনলাইন রেজিস্ট্রেশন এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে সুন্দরভাবে সংগঠিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের সরকার তার অধীনে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ জনকে ভ্যাকসিন প্রাপ্ত করানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন। প্রতিটি ভ্যাকসিনেশন কেন্দ্রে মানুষ নিরাপদভাবে ভ্যাকসিন নিচ্ছেন এবং প্রাপ্ত ভ্যাকসিনের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যেমন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য ঘরোয়া সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং প্রতিবেদন প্রক্রিয়ার উন্নতি। সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের সমস্ত বয়স্ক জনগণকে প্রায় ২০২২ সালের মধ্যে একবারে করে ভ্যাকসিন প্রাপ্ত করানো। সাথে সাথে ভ্যাকসিনেশনের অগ্রগতি এবং বিভিন্ন ভ্যাকসিনের প্রভাব নিয়ে নিয়মিত প্রতির্বেদন প্রকাশ করা হচ্ছে।
সরকার দেশব্যাপী ভ্যাকসিনেশন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে এবং এগুলো প্রতিষ্ঠা করার জন্য বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাকে জড়িত করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্যাম্পাস, হাসপাতাল, স্থানীয় সরকারি অফিস ইত্যাদি স্থানগুলো ভ্যাকসিনেশন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়াও, সরকার পাড়াপ্রের স্তরে ভ্যাকসিনেশন প্রক্রিয়ার সুবিধা সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে, যাতে একটি অঞ্চলের সবাই ভ্যাকসিন নিতে পারেন।